বিশ্বকাপ হারার পর আর্জেন্টিনায় পুলিশ-সমর্থক সংঘর্ষ

ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের পর রাজধানী বুয়েনস আইরেসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ম্যাচ শেষে হতাশ সমর্থকদের একাংশের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে অন্তত ১৫ জনকে আটক করেছে।
বিজ্ঞাপন
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য মিরর জানায়, ফাইনাল উপলক্ষে লাখো সমর্থক বুয়েনস আইরেসের প্রধান সড়কগুলোতে বড় পর্দায় খেলা দেখতে জড়ো হয়েছিলেন। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছিলেন তারা। তবে অতিরিক্ত সময়ে গোল হজম করে ১-০ ব্যবধানে স্পেনের কাছে হারায় সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়।
ম্যাচ চলাকালেই এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখায় আর্জেন্টিনা আরও চাপে পড়ে। পরে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের করা একমাত্র গোলে শিরোপা নিশ্চিত করে স্পেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর মাঠেও দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। শেষ বাঁশির পর স্পেনের এরিক গার্সিয়ার প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণের অভিযোগে আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার লেয়ান্দ্রো পারেদেসও লাল কার্ড দেখেন।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ইনফোবায়ে জানায়, খেলা শেষ হওয়ার আগে পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত ছিল। তবে স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ ওবেলিস্ক ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, একদল সমর্থক নিরাপত্তার জন্য স্থাপন করা বেষ্টনী ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
বিজ্ঞাপন
প্রায় ২০ মিনিট ধরে চলা এ সংঘর্ষে বিক্ষুব্ধ সমর্থকেরা পুলিশের দিকে কাচের বোতলসহ বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারেন। জবাবে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে।
ইনফোবায়ের তথ্যমতে, এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। কয়েকজন আহত হলেও তাদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে বুয়েনস আইরেসের বিভিন্ন সড়কে ভাঙা কাচ ও ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। একটি ছবিতে এক পুলিশ সদস্যকে মাটিতে পড়ে থাকা এক সমর্থককে লাথি মারতেও দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে পরাজয়ের পরও জাতীয় দলকে সম্মান জানাতে একটি বিশেষ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, জাতীয় দল ও কোচিং স্টাফ দেশে ফিরে যে দিন উদ্যাপনের সিদ্ধান্ত নেবেন, সেই দিনটিকে জাতীয় ছুটি ঘোষণা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর যেমন জাতীয় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল, তেমনি এবারও খেলোয়াড়দের সম্মান জানাতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।








