Logo

স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার: ডা. জুবাইদা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৬:২২
স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার: ডা. জুবাইদা
ছবি: সংগৃহীত

আয়, সামাজিক অবস্থান কিংবা মর্যাদা বিবেচনায় না নিয়ে দেশের সব নাগরিকের জন্য মানসম্মত ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নভোথিয়েটারের প্লেনারি হলে বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এর ‘হেলথ ইনোভেশন ফর অল : এক্সপ্যান্ডিং অ্যাকসেস টু অ্যাফোর্ডেবল অ্যান্ড ইনক্লুসিভ কেয়ার’ শীর্ষক প্লেনারি আলোচনায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এ মেলার আয়োজন করেছে।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, উন্নত হাসপাতাল নির্মাণ বা আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংগ্রহকে স্বাস্থ্যসেবার মান নির্ধারণের একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে দেখা উচিত নয়। অনেক রোগী জটিল অবস্থায় বিশেষায়িত হাসপাতালে পৌঁছান। কারণ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা কাছাকাছি না থাকায় তাদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। এ ছাড়া তৃতীয় স্তরের আধুনিক চিকিৎসাসেবা অনেকের জন্য ব্যয়সাপেক্ষ হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, রোগ গুরুতর পর্যায়ে যাওয়ার আগেই তা শনাক্ত করার ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য কর্মসূচি জোরদার করা প্রয়োজন। ডেঙ্গু ও হামসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য যাতে দূরের হাসপাতালে যেতে না হয়, সে ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সব ধরনের স্ক্রিনিং কর্মসূচির সঙ্গে রোগ নির্ণয়, চিকিৎসকের পরামর্শ, ওষুধ, পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন হলে রেফারেল সেবা যুক্ত করার ওপর জোর দেন তিনি।

দেশকে ভবিষ্যতের বয়স্ক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য চাহিদা মোকাবিলার জন্যও প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান ডা. জুবাইদা। ডিমেনশিয়া, পারকিনসনসসহ বয়স্কদের মধ্যে বাড়তে থাকা বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতি এখন থেকেই নেওয়ার কথা বলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী করা, মানুষের বসতবাড়ির কাছাকাছি চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকর্মী তৈরি করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বিনিয়োগ ধীরে ধীরে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব দেন তিনি।

পরিকল্পিতভাবে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগকে স্বাস্থ্যব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন ডা. জুবাইদা। তার মতে, এর মাধ্যমে বিশেষ করে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। এসব কর্মী কমিউনিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, মা ও শিশুর সেবা, স্বাস্থ্যশিক্ষা, দীর্ঘমেয়াদি রোগ ব্যবস্থাপনা এবং রেফারেল কার্যক্রমে ভূমিকা রাখতে পারবেন।

কমিউনিটি ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থেকে রোগীদের জেলা এবং বিশেষায়িত হাসপাতালে নির্বিঘ্নে পাঠানোর জন্য কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। একই সঙ্গে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর রোগীর তথ্য আবার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দলের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা থাকা দরকার বলে উল্লেখ করেন। এতে চিকিৎসা শেষে রোগীরা স্বাস্থ্যব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বেন না।

বিজ্ঞাপন

জাতীয় পর্যায়ে স্বেচ্ছায় রক্তদান, নিরাপদ রক্ত সংগ্রহ, সংক্রামক রোগের পরীক্ষা, রক্তের বিভিন্ন উপাদান পৃথকীকরণ, সংরক্ষণ ও পরিবহনের সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন ডা. জুবাইদা। রক্তদাতা থেকে রোগী পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ার তথ্য অনুসরণযোগ্য করার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানান তিনি।

স্বাস্থ্য খাতে উদ্ভাবনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, উদ্ভাবন বলতে শুধু ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতি তৈরি বা নতুন অ্যাপ চালু করাকে বোঝায় না। রোগীর বাস্তব সমস্যার কার্যকর সমাধান করতে পারে—এমন উদ্ভাবনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য গবেষক, শক্তিশালী ওষুধশিল্প, অভিজ্ঞ চিকিৎসক, ডিজিটাল সক্ষমতা, কমিউনিটি পর্যায়ের সংগঠন এবং উদ্যোক্তাদের একটি সম্ভাবনাময় প্রজন্ম রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। গবেষণা, যাচাই, নিয়ন্ত্রণ, দায়িত্বশীলভাবে পণ্য ও সেবা ক্রয় এবং সেবা প্রদানের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন বলে জানান ডা. জুবাইদা।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতিটি স্তরকে রোগীর প্রয়োজন ও অধিকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখতে হবে। তাহলেই দেশের প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক এ কে আজাদ খান।

বিজ্ঞাপন

আলোচনায় আরও অংশ নেন ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর হোসেন, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এম মোসাদ্দেক হোসেন, টিএমএসএসের ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ডা. মতিউর রহমান, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. আক্তার হোসেন, ইউনাইটেড হেলথকেয়ার সার্ভিসেস লিমিটেডের মেডিকেল সার্ভিসেস বিভাগের পরিচালক ডা. আজহারুল ইসলাম খান এবং এসকেজেন লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. সাদাফ সাজ সিদ্দিকী।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD