হরমুজ প্রণালি ইরান যুদ্ধের গতিপথ বদলে দিয়েছে: দ্য গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ

হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নতুন মোড় নিয়েছে বলে বিশ্লেষণে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। শুরুতে সামরিকভাবে এগিয়ে থাকলেও যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখন কৌশলগত চাপে পড়েছে বলে মত অনেক বিশেষজ্ঞের।
বিজ্ঞাপন
সংবাদমাধ্যমটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সংঘাতের প্রথম ধাপে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র ইসরায়েলের হাতে ছিল। তবে হরমুজ সংকট বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলায় এখন যুদ্ধের গতিপথ নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ী বলেছেন, “যুদ্ধের সমাপ্তি আমাদের হাতে।” তিনি একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার এবং হামলায় সৃষ্ট ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।
বিজ্ঞাপন
ইসরায়েলের আকস্মিক হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাতের সূত্রপাত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলা তীব্র হয় এবং ইরানের আকাশসীমায় অভিযান চালানোর সক্ষমতা প্রদর্শন করে তারা। বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক হামলা চালানো হয়।
জবাবে ইরান ইসরায়েলের দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। তবে সেগুলোর বেশিরভাগই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় প্রতিহত হয়। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় ১৫ জন নিহত হয়েছে।
উপসাগরীয় দেশগুলো সরাসরি বড় ক্ষতির মুখে না পড়লেও তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও অর্থনৈতিক ভাবমূর্তি নিয়ে আলোচনা চলছে।
বিজ্ঞাপন
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়াই পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। প্রণালি বন্ধ থাকায় তেলের দাম বেড়েছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বিজ্ঞাপন
জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড্যানি অরবাখের মতে, এখনো যুদ্ধের এজেন্ডা মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে হরমুজ বন্ধ করে ইরান সংঘাত বাড়িয়ে কৌশলগত চাপ তৈরির চেষ্টা করেছে বলে তার মন্তব্য।
কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল স্থাপনা বা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর আরও চাপ প্রয়োগ করতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত সরাসরি বৃহৎ স্থাপনায় হামলা হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে লন্ডনের কিংস কলেজের অধ্যাপক পিটার নয়মান মনে করেন, হরমুজ পরিস্থিতির মাধ্যমে ইরান কৌশলগত সুবিধা পেয়েছে এবং প্রণালির ইস্যুতে এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া নির্ধারণই বড় প্রশ্ন।
যুক্তরাষ্ট্র প্রণালি খুলতে মিত্র দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে। তবে এখনো কোনো দেশ তাতে সম্মত হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, শত শত তেলবাহী জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও জটিল হবে।
লেবাননে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। পাল্টা বিমান হামলায় লেবাননে ব্যাপক প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতি ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বিজ্ঞাপন
বিশ্লেষকরা বলছেন, সামগ্রিক সংঘাতের ভেতরে বিভিন্ন গোষ্ঠী ও আঞ্চলিক শক্তির ভূমিকা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। তবে ইরান সরকারের স্থিতিশীলতা এবং সামরিক কাঠামো এখনো দৃঢ় রয়েছে বলেও মন্তব্য এসেছে।
শেষ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলবে কি না, সে সিদ্ধান্ত তেহরানের অবস্থানের ওপর নির্ভর করছে বলে বিশ্লেষণে তুলে ধরা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান








