অর্থ, ক্ষেপণাস্ত্র ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনেও নিরাপত্তাহীন সৌদি আরব

বিপুল অর্থ, উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন থাকার পরও নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছে সৌদি আরব। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাত ও হামলার ঝুঁকি দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে।
বিজ্ঞাপন
এই পরিস্থিতির মধ্যেই গত সপ্তাহে মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে। চুক্তিটিকে অনেকেই ‘ইসলামিক ন্যাটো’ হিসেবে দেখছেন। এতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ স্বাক্ষর করেন।
চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো—তিন দেশের যেকোনো একটি আক্রান্ত হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতির পরই তুরস্ক এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ন্যাটোর সঙ্গে তুরস্কের বিদ্যমান অঙ্গীকারের সঙ্গে এই চুক্তির কোনো বিরোধ তৈরি হবে না বলেও দাবি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
চলমান ইরান-আমেরিকা সংঘাতের প্রভাবেও সৌদি আরব বড় ধরনের চাপের মধ্যে পড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাত শুরুর পর দেশটির প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ৮৬ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সৌদির তেল রপ্তানিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর পাশাপাশি হুথি ও ইরাকি মিলিশিয়াদের হামলার আশঙ্কা দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
বিজ্ঞাপন
প্রতিরক্ষা সক্ষমতার দিক থেকে তিন দেশ একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে। চুক্তির আওতায় সৌদি আরব অর্থায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, তুরস্ক উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি সরবরাহ করবে এবং পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তান সামরিক সহায়তা দেবে।
এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়েছিল। ইসরায়েলের কাতার হামলার পর সেই সহযোগিতার পরিধি আরও বাড়িয়ে তাতে তুরস্ককে যুক্ত করা হয়েছে।
তবে তুরস্ক ও সৌদি আরবের সম্পর্ক সবসময় এতটা ঘনিষ্ঠ ছিল না। মুসলিম ব্রাদারহুড ইস্যু, লিবিয়া ও সিরিয়ায় পরোক্ষ সংঘাত এবং সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন তীব্র বিরোধ ছিল। বর্তমান চুক্তিকে তাই আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সৌদি রাজপরিবারের দুর্বলতা মোকাবিলার কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনা এবং উচ্চাভিলাষী ‘নিওম’ প্রকল্পেও পড়েছে। এসব প্রকল্পের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সৌদি অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি হচ্ছে।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরান, হুথি গোষ্ঠী এবং এমনকি ইসরায়েলকে নিজেদের সক্ষমতার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাও ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির অন্যতম উদ্দেশ্য। অর্থ ও সামরিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে সৌদি আরবের উদ্বেগ যে কাটেনি, সাম্প্রতিক এই উদ্যোগে তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: এনডিটিভি








