Logo

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চীনের প্রভাব বাড়ছে, মিসরে শি জিনপিংকে উষ্ণ অভ্যর্থনা

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৭:২৮
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চীনের প্রভাব বাড়ছে, মিসরে শি জিনপিংকে উষ্ণ অভ্যর্থনা
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার উত্তেজনার মধ্যেই মিসর সফরে গেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানী কায়রোতে তাকে স্বাগত জানান মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো যখন দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে ভাবছে, তখন শি জিনপিংয়ের এ সফরের মধ্য দিয়ে চীন ও মিসরের ঘনিষ্ঠতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

মিসরের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, কায়রোর আল-ইত্তিহাদিয়া প্রাসাদে সামরিক কুচকাওয়াজের মাধ্যমে শি জিনপিংকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হয়। গত এক দশকের মধ্যে এটি চীনা প্রেসিডেন্টের প্রথম মিসর সফর।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের পর কয়েক মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যে চলা অস্থিরতায় আঞ্চলিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি মিত্র দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতেই মিসরে শি জিনপিংয়ের সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অংশীদার মিসর ওয়াশিংটনের কাছ থেকে বছরে প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা পায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতাও বাড়িয়েছে কায়রো। ২০১৪ সালে সিসির চীন সফরের সময় কৌশলগত অংশীদারত্বের চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে বিস্তৃত হয়েছে।

মিসরের সাবেক কূটনীতিক আইমান জায়নেলদিনের মতে, মিসর যেমন বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তার মিত্রতার পরিধি বাড়াতে চাইছে, তেমনি এশিয়ার বাইরে নিজেদের প্রভাব বিস্তারে আগ্রহী চীন। দুই দেশের এই লক্ষ্য এখন একই জায়গায় এসে মিলেছে।

তিনি বলেন, চীনসহ বিশ্বের বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করতে চায় মিসর। ফলে দুই দেশের স্বার্থ ও দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে সামঞ্জস্য বাড়ছে।

বিজ্ঞাপন

সামরিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগ

শি জিনপিংয়ের সফরকে ঘিরে কয়েক দিন ধরে কায়রোতে ব্যাপক প্রস্তুতি ও উৎসাহ দেখা গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক চীনের পতাকায় সাজানো হয়েছে। এসব সাজসজ্জায় মিসরের স্ফিংক্স ও চীনের গ্রেট ওয়ালের মতো ঐতিহাসিক স্থাপনাও তুলে ধরা হয়েছে।

মিসরের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে চীন-মিসর সম্পর্ক ও দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশের পাশাপাশি চীনের আধুনিক অস্ত্রব্যবস্থা নিয়েও খবর প্রচার করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

গত মাসে মিসর ও চীনের যৌথ সামরিক মহড়া ‘ইগলস অব সিভিলাইজেশন’-এ দুই দেশের সামরিক সহযোগিতার ক্রমবর্ধমান চিত্র স্পষ্ট হয়। ওই মহড়ায় চীনের তৈরি জে-১৬ যুদ্ধবিমান এবং ফ্রান্সের তৈরি রাফালে যুদ্ধবিমানের যৌথ অংশগ্রহণের বিরল দৃশ্য দেখা যায়।

মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভূমিকা আরও বাড়াতে আগ্রহী চীন। অন্যদিকে মিসরের আঞ্চলিক প্রভাব ও কৌশলগত অবস্থান দেশটিকে বেইজিংয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারে পরিণত করেছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

সুয়েজ খালের অবস্থান এবং ১১ কোটির বেশি জনসংখ্যা মিসরকে চীনা পণ্য ও বিনিয়োগের জন্য বড় বাজারে পরিণত করেছে। মিসরের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে চীন থেকে দেশটির আমদানি ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪ শতাংশের বেশি।

রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের (রুসি) গবেষক এইচ এ হেলিয়ার বলেন, বেইজিংয়ের কাছে মিসর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। দেশটির বড় অভ্যন্তরীণ বাজার বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয়। পাশাপাশি আফ্রিকার সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে মিসরের অবস্থান এবং ফিলিস্তিন সংকটসহ আঞ্চলিক রাজনীতিতে দেশটির বড় কূটনৈতিক ভূমিকা রয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মিসরে শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। কনটেইনার বন্দর, গ্রিন হাইড্রোজেন প্রকল্প, লোহার পাইপ, গাড়ির টায়ার ও স্যাটেলাইট উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে এসব বিনিয়োগ হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া কায়রোর পূর্বদিকে প্রেসিডেন্ট সিসির পরিকল্পিত নতুন প্রশাসনিক রাজধানীর ব্যবসায়িক এলাকা নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন।

সূত্র: রয়টার্স

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD