Logo

মাত্র ২০ মিনিটের ব্যবধানে দুই দফা হামলা, এটাই কি আইনের শাসন?

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ জুলাই, ২০২৬, ১৭:৩৬
মাত্র ২০ মিনিটের ব্যবধানে দুই দফা হামলা, এটাই কি আইনের শাসন?
ছবি: সংগৃহীত

সিলেটের গোলাপগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের বহরে হামলার অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর এনসিপির আহ্বায়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী আইনের শাসন নিয়ে প্রশ্ন তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “মাত্র ২০ মিনিটের ব্যবধানে সিলেটে দুই দফা হামলা, এটাই কি আইনের শাসন?” তার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এর আগে একই দিন দুপুরে সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভা অডিটোরিয়ামে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এনসিপির সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভা শেষে দলটির নেতাকর্মীদের বহরে হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য ইয়াসির আরাফাত সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় দাবি করেন, দলটির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির বহরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমকে বহনকারী গাড়িটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, সভা শেষে সারজিস আলমের গাড়িবহর অডিটোরিয়াম এলাকা ত্যাগ করার সময় কয়েকজন ব্যক্তি গাড়িগুলো লক্ষ্য করে বোতল ও পাথর নিক্ষেপ করেন। এতে সারজিস আলমের ব্যবহৃত গাড়ির পেছনের কাচ ভেঙে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগানও শোনা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

এনসিপির শ্রমিক সংগঠন ‘জাতীয় শ্রমিক শক্তি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য শিব্বির আহমদ দাবি করেন, হামলায় এনসিপির নেত্রী মাহমুদা মিতু ও নেতা আতিকুর রহমান মোজাহিদের গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া জুলাই আন্দোলনের সাত শহীদ পরিবারের সদস্যদের বহনকারী কয়েকটি যানবাহনও হামলার শিকার হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

বিজ্ঞাপন

ঘটনার সময় এলাকায় পুলিশ সদস্য উপস্থিত থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে কেউ আহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হামলার পর পুলিশি নিরাপত্তায় সারজিস আলমকে বহনকারী গাড়িবহর সিলেট নগরের দিকে চলে যায়।

পরে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে সারজিস আলম অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের কর্মীরাই এ হামলা চালিয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, সিলেটে ফেরার পথে পাঁচমাইল এলাকায় আবারও চাপাতি ও রামদা নিয়ে তাদের ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে ছাত্রদল। সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নন। তিনি দাবি করেন, দলীয় নেতাকর্মীদের কর্মসূচিতে কোনো ধরনের বাধা না দেওয়ার নির্দেশনা ছিল। তার ভাষ্য, শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা হলেও আহতদের দেখতে না যাওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে কিছু অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল বলে তিনি শুনেছেন।

বিজ্ঞাপন

ঘটনার বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হামলার অভিযোগ এবং পাল্টা অস্বীকারের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD