আলিফের চিকিৎসা ও হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি এনসিপির

হবিগঞ্জে জাতীয় ছাত্রশক্তির জেলা শাখার নেতা আলিফ চৌধুরী হামলায় গুরুতর আহত হয়ে এক চোখ হারানোর ঘটনায় সরকারের কাছে তিন দফা দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি আলিফের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহন, উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে (এনআইওএইচ) চিকিৎসাধীন আলিফ চৌধুরীকে দেখতে যাওয়ার পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।
আখতার হোসেন বলেন, হবিগঞ্জে সংঘটিত হামলায় আলিফ চৌধুরী একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। অস্ত্রোপচারের পর তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত চোখের দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। পাশাপাশি অপর চোখেও ঝাপসা দেখার কারণে সেটি নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি অভিযোগ করেন, হবিগঞ্জের ঘটনার পরও এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনের কিছু সময় আগেই সিলেটে দলের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় দলের নেতারা কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ছিলেন না; বরং জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের কবর জিয়ারত এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ফেরার পথে হামলার শিকার হন।
বিজ্ঞাপন
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সদস্য সচিব আরও অভিযোগ করেন, বুধবার হবিগঞ্জে দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার সময় বিরোধীদলীয় চিফ এবং উপস্থিত নারী সংসদ সদস্যরাও হেনস্তার শিকার হয়েছেন। একইসঙ্গে হবিগঞ্জের ঘটনার প্রতিবাদে কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতেও ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আখতার হোসেন বলেন, দেশে ভয়াবহ রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। তার দাবি, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেভাবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর হামলা ও দমন-পীড়নের অভিযোগ ছিল, বর্তমান সরকারও একই ধরনের আচরণ করছে। প্রকৃত গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর হামলা, মামলা ও হয়রানি বন্ধ করা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, হবিগঞ্জে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ছিল এবং সেখানে কোনো ধরনের সহিংসতা বা অস্ত্রের প্রদর্শন ছিল না। এরপরও পুলিশ ব্যারিকেড ও ট্রাক দিয়ে সড়ক অবরোধ করে কর্মসূচির অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষায়, এ ধরনের পরিস্থিতি অতীতের দমনমূলক রাজনৈতিক পরিবেশের কথা মনে করিয়ে দেয়।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এ সময় সরকারের উদ্দেশে তিনটি দাবি তুলে ধরে আখতার হোসেন বলেন, প্রথমত আলিফ চৌধুরীর চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার সরকারকে বহন করতে হবে এবং তাকে ও তার পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির চিহ্নিত হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। তৃতীয়ত, এনসিপিসহ দেশের সব গণতান্ত্রিক বিরোধী রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং জুলাই পদযাত্রাসহ সব রাজনৈতিক কর্মসূচি নির্বিঘ্নে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
এনসিপির দাবি, রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ করে সব দলের জন্য সমান রাজনৈতিক অধিকার ও নিরাপদ কর্মসূচির পরিবেশ নিশ্চিত করাই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।








