‘ভারত সব দলকে পকেটে ঢুকিয়ে ফেলেছে, একটি দলকে পারেনি’

ঢাকার কাকরাইলে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেছেন, দেশের সব রাজনৈতিক দলকে একটি দেশ প্রভাবের আওতায় আনতে সক্ষম হলেও জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রে তা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, এ কারণেই দলটিকে নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা অভিযোগ তোলা হয়।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) ভবনের কাউন্সিল হলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাইযোদ্ধাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর জামায়াতের উত্তর ও দক্ষিণ শাখার উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল।
শফিকুর রহমান বলেন, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন সরকার জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধ করেছিল। তার দাবি, এর প্রধান কারণ ছিল দলটি কোনো ধরনের আধিপত্যবাদ মেনে নেয়নি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, ভারতের সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের ক্ষেত্রেও জামায়াতকে দায়ী করা হয়েছে। তার ভাষ্য, সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ন্ত্রণে আনা গেলেও জামায়াতকে বশে আনা সম্ভব হয়নি বলেই এমন অভিযোগ করা হচ্ছে।
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, জাতি বর্তমানে কঠিন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই সময়ক্ষেপণ না করে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং সঠিক পথে চলার আহ্বান জানান তিনি।
জুলাই আন্দোলনে জামায়াতের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আন্দোলনের শুরু থেকেই তাদের দল শিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল। তবে আন্দোলন সফল হওয়ার পরও তারা কখনো এর কৃতিত্ব দাবি করেননি। বরং শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন।
বিজ্ঞাপন
শহীদ ও আহতদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্দোলনে প্রাণ দেওয়া অধিকাংশ মানুষ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ছিলেন এবং অনেকেই শিক্ষার্থীও ছিলেন না। তাদের কোনো কোটা বা সরকারি চাকরির দাবি ছিল না; তারা একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশায় আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, তাদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে যদি সেই আদর্শ রক্ষা না করা যায়, তাহলে শহীদ পরিবার ও আহতদের কাছে সবাইকে জবাবদিহি করতে হবে।
বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করে জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা পরিষদ, ব্যাংক-বিমা, করপোরেশনসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ চলছে। তার দাবি, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক ব্যক্তিদের সরিয়ে অসৎ ও দুর্নীতিগ্রস্তদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসানো হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া মানুষ কোনো একটি দলকে সরিয়ে অন্য একটি দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য আত্মত্যাগ করেননি। তারা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার পরিবর্তন চেয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, দেশ আবারও পুরোনো পথে ফিরে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভুল মানুষের, দলের কিংবা সরকারেরও হতে পারে। তবে জাতির সঙ্গে করা অঙ্গীকার রক্ষা করা জরুরি। তিনি সরকারকে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং দেশের মানুষের প্রত্যাশার প্রতি সম্মান জানানোর আহ্বান জানান।
বিজ্ঞাপন
বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের হত্যার বিচার এবং আহতদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবি থেকে জামায়াতে ইসলামী কখনো সরে আসবে না। বিচার আজ হোক বা বহু বছর পরে হোক, একদিন তা অবশ্যই হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করানো যাবে না। আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং জনগণের অধিকারের প্রশ্নে তারা ভবিষ্যতেও সোচ্চার থাকবেন।








