Logo

রাজনীতিতে অশালীন ভাষা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর: রিজভী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ আগস্ট, ২০২৬, ২১:৪৩
রাজনীতিতে অশালীন ভাষা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর: রিজভী
ছবি: সংগৃহীত

রাজনীতিতে অশালীন ভাষার ব্যবহার গণতন্ত্র, সভ্যতা ও সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও শালীন ভাষা ও ইতিবাচক রাজনৈতিক চর্চা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (২ আগস্ট) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল আয়োজিত ‘জুলাই রক্তাক্ত: স্মরণ ও প্রত্যয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নিয়মিত মিথ্যাচার ও অপপ্রচার চালাতেন। বিএনপি তাকে ফ্যাসিস্ট ও খুনি বলেছে, কিন্তু কখনো অশালীন ভাষা ব্যবহার করেনি। বর্তমানে কিছু তরুণ নেতার বক্তব্যে যে ধরনের ভাষা দেখা যাচ্ছে, তা গণতন্ত্র, সভ্যতা ও উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য সহায়ক নয়। তার মতে, এ ধরনের ভাষা শেখ হাসিনার অপসংস্কৃতিরই প্রতিফলন।

তিনি বলেন, সমাজে ঘৃণার রাজনীতি করে কেউ টিকে থাকতে পারে না। ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই শেখ হাসিনার পরাজয় হয়েছে। তাই নতুন প্রজন্মের রাজনীতিকদের উচিত অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি না করে ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমালোচনা করে রিজভী বলেন, তরুণ রাজনীতিকদের চিন্তা-ভাবনা হওয়া উচিত প্রগতিশীল ও অগ্রগামী। দেশকে নতুন কিছু দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে তাদের রাজনীতিতে আসা উচিত। কিন্তু তারা একটি পশ্চাৎমুখী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট করেছে, যা রাজনৈতিক দর্শনের দিক থেকেও সঠিক সিদ্ধান্ত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা মনে করেছিলেন গুলি চালিয়ে ও রক্তপাত ঘটিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখা সম্ভব হবে। কিন্তু তিনি দেশের মানুষের সাহস ও বীরত্বের ইতিহাসকে মূল্যায়ন করতে পারেননি। ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রিজভীর ভাষ্য, জুলাই বিপ্লব ছিল ১৭ বছর ধরে চলা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আপসহীন সংগ্রামের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। গণতন্ত্রের প্রশ্নে খালেদা জিয়ার দৃঢ় অবস্থান থেকে শেখ হাসিনা তাকে বিচ্যুত করতে পারেননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

প্রশাসনে দলীয় নিয়োগ প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন সরকার নিজেদের লোক নিয়োগ করে—বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও এমন ব্যবস্থা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্পয়েলস সিস্টেম’-এর উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সেখানে হাজার হাজার পদে নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়। তার দাবি, এটি বেআইনি নয়।

একই সঙ্গে রিজভী দাবি করেন, ভবিষ্যতে জামায়াত ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দলীয়করণ ঘটতে পারে।

বিজ্ঞাপন

আলোচনা সভায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির ছাত্রশিবিরের সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, গত মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্য সেন হল ও শহীদুল্লাহ হলে ছাত্রশিবিরের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছিল এবং এ ঘটনায় প্রশাসন ব্যবস্থা নেয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রশিবির নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানি ও সাইবার বুলিং করে আসছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে চালু হওয়া ‘ফিমেল কর্নার’ নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

এনসিপির নেতা নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যের সমালোচনা করেন নাছির উদ্দিন নাছির। একই সঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাউদ্দিন আম্মারকে উদ্দেশ করেও কঠোর মন্তব্য করেন তিনি।

আলোচনা সভায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল, মহানগর বিএনপি এবং বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD