Logo

বিরোধীদলের নেতারা ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার মতো কথা বলছেন

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ আগস্ট, ২০২৬, ১৫:৩৬
বিরোধীদলের নেতারা ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার মতো কথা বলছেন
ছবি: সংগৃহীত

বিরোধীদলীয় নেতাদের বক্তব্যের ধরন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়ের মতো হয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিজ্ঞাপন

সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর দেশে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে এবং সেই সময়ে জুলাই সনদ প্রণয়নের কাজও এগিয়েছে।

জুলাই সনদ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিএনপি সনদটি গ্রহণ করছে না বা বাস্তবায়ন থেকে সরে যাচ্ছে—এমন বক্তব্যকে তিনি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা বলে উল্লেখ করেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিএনপি সংস্কারের মধ্য দিয়েই এগিয়ে এসেছে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, দলটি জোর করে ক্ষমতা দখল করেনি; জনগণের ম্যান্ডেট নিয়েই সরকার গঠন করেছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি পিছিয়ে যাচ্ছে—এমন ধারণা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গণভোটের প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সেখানে থাকা চারটি প্রশ্নের মধ্যে তিনটির সঙ্গে তারা একমত। তবে সংবিধান সংস্কার কমিশনের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যথেষ্ট আলোচনা না করে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে বিএনপি শুরু থেকেই ভিন্নমত জানিয়ে আসছে বলেও উল্লেখ করেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, জুলাই ঘোষণার প্রতিটি অংশে স্বাক্ষর করেছে বিএনপি এবং সরকারে এসে সেগুলো বাস্তবায়নে কাজ শুরু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক কাজ এগিয়েছে এবং সংসদেও একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে সংস্কার না সংশোধন—এমন শব্দগত বিষয়কে কেন্দ্র করে বিভেদ তৈরি হচ্ছে।

বিরোধীদলীয় নেতাদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, বিষয়গুলো নিয়ে সংসদে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। মতের অমিল থাকলে আলোচনা শেষে বিরোধীরা তাদের অবস্থান থেকে সরে যেতে পারেন। তবে বর্তমানে বিরোধীদলীয় নেতাদের বক্তব্যের ধরন নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, এমন ভাষায় আগে শেখ হাসিনাকে কথা বলতে দেখা গেছে।

তিনি বলেন, বিরোধীদল সরকারের সমালোচনা করবে এবং ভুলত্রুটি তুলে ধরবে—এটাই স্বাভাবিক। তবে সংসদের ভেতরে এসব আলোচনা হলে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকে। রাস্তায় প্রতিবাদ করাও গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ, কিন্তু তা যেন সংঘাতে পরিণত না হয়, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের মানুষের জন্য সরকারকে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। নেতিবাচক বক্তব্যের মাধ্যমে সরকারকে পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে দেশের অগ্রগতিতে বাধা তৈরি হবে। রাজনৈতিক বিরোধের কারণে দেশ যেন সংঘাতের দিকে না যায়, সেদিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে গণমাধ্যমের ওপর সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই, যা ইতিবাচক দিক। বেকার সাংবাদিকদের কর্মসংস্থানের বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করার কথা জানান তিনি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

সরকারকে আরও সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সামনে অনেক সমস্যা রয়েছে। সেগুলো সমাধানে সহনশীলতার সঙ্গে এগোতে হবে। সরকারকে সঠিকভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। সরকারের মেয়াদ মাত্র পাঁচ মাস হওয়ায় এত অল্প সময়ে সবকিছু প্রত্যাশামতো সম্পন্ন করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে জুলাইয়ের আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের পরিবার ও সন্তানদের দায়িত্ব রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নেওয়ার বিষয়ে সরকার নজর দেবে বলেও জানান মির্জা ফখরুল।

আলোচনা সভায় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD