নসিহত নং-২১: খোদাপ্রাপ্তির পথে মুজাদ্দেদীয়া তরিকার বৈশিষ্ট্য

খোদাপ্রাপ্তি জ্ঞানের আলোকে শাহ্সূফি হযরত খাজাবাবা ফরিদপুরী (কূঃছেঃআঃ) ছাহেবের নসিহত লতিফাসমূহের পরিচিতি بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ মুজাদ্দেদীয়া তরিকার কতিপয় বৈশিষ্ট্যঃ
বিজ্ঞাপন
ইমামে রাব্বানী, কাইয়্যুমে জামানী, মাহবুবে সোবহানী, গাউসে সামদানী, রাফিউল মাকানী, হযরত শায়খ আহমদ সেরহিন্দী মুজাদ্দেদ আলফেসানী (রাঃ) ছাহেব খোদাতত্ত্ব জ্ঞান অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে তরিকায়ে মুজাদ্দেদীয়া নামে যে সাধনা-পদ্ধতি বা তরিকা নিরূপণ করেন, তাহা আজও মুরশিদে কামেলগণের পাক-আত্মা পরম্পরায় মানুষকে আল্লাহতায়ালার সত্য সন্ধানে অনুপ্রাণিত, পরিচালিত ও কামিয়াবী দান করিতেছে।
মুজাদ্দেদীয়া তরিকার এমন কতিপয় বিশেষ দিক রহিয়াছে, যাহা এই তরিকাকে অন্যান্য তরিকার প্রদর্শিত খোদাতত্ত্ব সাধনার পথ হইতে পৃথক করিয়াছে। অন্যান্য তরিকায় ছালেককে বা আল্লাহতায়ালার অনুসন্ধানের পথের পথিককে প্রথমে লতিফায়ে নাফসে সবক দেয়া হয় বা ছুলুক শিক্ষা দেয়া হয়। লতিফায়ে নাফস আলমে খালকের বা সৃষ্টি জগতের লতিফা। নাফস মানব শরীরের এমন একটি লতিফা যেখানে দীর্ঘ দিনের সাধনায়ও আল্লাহতায়ালার জেকের জারী করিতে কষ্ট হয়। নাফসে আম্মারা মানব দেহের সেই উপাদান, যাহা মানুষকে কুপথে যাইবার, খারাপ ভাবনা চিন্তা করার, আল্লাহতায়ালার নিষিদ্ধ পথে যাইবার প্ররোচনা দেয়। কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ, মাৎসর্য, হিংসা, কিনা, রিয়া, কামনা, বাসনা ইত্যাদি রিপুর উৎপত্তিস্থল এই নাফস।
ছালেককে তাই লতিফায়ে নাফসকে আল্লাহতায়ালার হুজুরীর পথে আনিতে বা এই 'নাফস'কে জিন্দা করিয়া সেখানে আল্লাহতায়ালার জেকের সর্বক্ষণ জারী রাখিতে খুবই কষ্ট করিতে হয়। নতুন ছালেক বা আল্লাহতায়ালার অনুসন্ধানের পথের পথিককে এই নাফসে প্রথমে জেকের জারী করাইতে তাই বিশেষ কষ্ট করিতে হয়। কঠিন কষ্ট করিতে না পারায় বা ধৈর্য ধারণ করিতে না পারিয়া অন্যান্য তরিকার অনেক নতুন ছালেক তাই খোদাতত্ত্ব সাধনাই ছাড়িয়া দিতেন। নতুন পথিকদের জন্য সাধনার পথ সহজ করিবার লক্ষ্যে হযরত মুজাদ্দেদ আলফেসানী (রাঃ) ছাহেব তৎপ্রবর্তিত মুজাদ্দেদীয়া তরিকার সাধনার পদ্ধতিতে প্রথমেলতিফায়ে নাফসের বদলে লতিফায়ে কালবে সবক দান বা "ছুলুক" শিক্ষা করার নীতি প্রবর্তন করেন।
বিজ্ঞাপন
লতিফায়ে কালবের পরিচয়ঃ
কালব হইল আলমে আমর অর্থাৎ নূরের জগতের লতিফা। আলমে আমর আল্লাহতায়ালার আরশের উপর অবস্থিত। আলমে আমর বা নূরের জগতে ইহার মূল বিধায়, ইহা একটা সূক্ষ্ম জগতের লতিফা। মুর্শিদে কামেলের তাওয়াজ্জুতে এই লতিফায়ে কালব জিন্দা হইয়া মুরীদের "জেকেরে কালবী" হাসিল হয়, আল্লাহতায়ালার নূর প্রকাশ পায়। মুর্শিদের দয়ায় "জেকেরে কালবী" হাসিল হইলে মুরীদের দেল অতি সহজে আল্লাহতায়ালার দিকে রুজু হয়। নতুন ছালেক আল্লাহতায়ালার অনুসন্ধানের পথে সাধনায় উৎসাহী ও অনুপ্রাণিত হয়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
এই লতিফার স্থান বাম স্তনের দুই অংগুলি পরিমাণ নীচে, ঈষৎ পাঁজরার দিকে নিরূপিত আছে। পদ্ম-কোরক উল্টাইয়া ধরিলে যে রূপ দেখা যায়, লতিফায়ে কালবের আকার প্রায় সেইরূপ। ইহার একটি আসল যেরূপ আরশের উপর আছে, তদরূপ আসলের আসল তাজাল্লীয়াতে আয়ালে সন্নিবেশিত রহিয়াছে। "তাজাল্লীয়াতে আ্যাল" হইল আল্লাহতায়ালার সেই শক্তি, যাহার মধ্যে সৃষ্টি জগতের সকল ক্রিয়া কর্ম-কান্ড নিরূপিত রহিয়াছে। এই তাজাল্লীয়াতে আয়ালের নূর বা জ্যোতির শক্তির দ্বারাই এই পৃথিবী, চন্দ্র-সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্র নিজ নিজ কেন্দ্রের উপর ও কক্ষপথে পরিভ্রমণ করিতেছে, দিন ও রাত্রি হইতেছে, কক্ষপথের পরিক্রমার ফলশ্রুতিতে পৃথিবীতে ঋতু পরিবর্তন হইতেছে, একেক ঋতু পরিবর্তনের ফলে নূতন নূতন ফুল-ফল, তরু-লতা, ফসলাদি সৃষ্টি হইতেছে। প্রাণী জগতেও নূতন জন্ম হইতেছে।
বিজ্ঞাপন
খোদাতত্ত্ব সাধনার পথের-পথিক যখন এই মাকামে আসিবে, সৃষ্টি জগতের ক্রিয়া-কর্মের যাহাই তাহার দৃষ্টিগোচর হইবে, তাহাই সে আল্লাহতায়ালার ক্রিয়াগুণ সমূহের প্রতিবিম্ব বলিয়া জানিবে। খোদাতায়ালা ভিন্ন ব্যক্তি, বস্তু, নক্ষত্র, সূর্য, আকাশ প্রভৃতির কর্ম বস্তুতই যে আল্লাহতায়ালার ক্রিয়াগুণ ব্যতীত সম্ভব নয়, তাহা ছালেক সুস্পষ্টভাবে অনুভব করিবে। এই লতিফার নূর বা জ্যোতি সরিষা ফুলের মত হলুদ বর্ণের।
খোদাতায়ালা আমাদের যে সকল দশটি উপাদান দ্বারা তৈরী করিয়াছেন, তাহাদের প্রতিটিকে লতিফা বলে। পূর্ববর্তী নসিহতে বলা হইয়াছে-লতিফাসমূহ দুই ভাগে বিভক্ত। আলমে আমর ও আলমে খালক। আলমে আমর নূরের জগৎ বা সূক্ষ্ম জগৎ। আলমে খালক জড় জগৎ বা স্থল জগৎ। কালব, রূহ, সের, খফি ও আখফা-এই পাঁচটি আলমে আমর বা সূক্ষ্ম জগতের লতিফা। আব, আতস, খাক, বাদ, বা আগুন, পানি, মাটি, বাতাস ও নাফস-এই পাঁচটি স্কুল জগতের লতিফা।
অসীম ক্ষমতাবান আল্লাহতায়লা "কুন" বা হও শব্দের 'আমর' দ্বারা আলমে আমরের সকল লতিফা সম্বলিত "রূহ" সৃষ্টি করিয়াছিলেন। সেই "আমর" হইতে সৃষ্টি হেতু কালব, রূহ, সের, খফি ও আখফাকে "আলমে আমরের" বা নূরের জগতের লতিফা বলা হয়। এই সকল লতিফা এমন হেকমতে তৈরী যে, ইহারা আকার সংলগ্ন অবস্থায় আকারের রূপ ধারণ করে, আবার নিরাকার অবস্থায়ও থাকিতে পারে।
বিজ্ঞাপন
"আলমে আমরের" বা সূক্ষ্ম জগতের লতিফা "রূহ" দ্বারা স্কুল জগতের লতিফা নাফসকে পবিত্র করাইয়া আল্লাহতায়ালার পথে লইয়া যাওয়াই মানব জীবনে খোদাপ্রাপ্তি সাধনার প্রথম পদক্ষেপ। "রূহ" নাফসকে পবিত্র করিতে আসিয়া নিজেই অপবিত্র হইয়া যায়। তাই রুহের পবিত্রতা অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য সতর্ককারীর প্রয়োজন। অন্যান্য তরিকায় মানব দেহে অপবিত্রতা বা দোষের মূল কারণ নাফসকে পবিত্র করিয়া "রূহকে" পবিত্র করাইবার পদক্ষেপ নেয়া হয়। কিন্তু নাফসকে পবিত্র করা যেমন দুঃসাধ্য, তেমনি সময় সাপেক্ষ।
খোদাতত্ত্ব সাধনায় লতিফায়ে কালবের গুরুত্বঃ
মুজাদ্দেদ আলফেসানী (রাঃ) ছাহেব আলমে আমরের অপর লতিফা কালবের দ্বারা প্রথমে রূহকে নাফসের প্রভাবমুক্ত করিবার রীতি প্রবর্তন করেন। এই প্রক্রিয়ায় প্রথমে আলমে আমরের কালব, রূহ, সের, খফি, আখফা-এই পাঁচটি লতিফা, দ্বিতীয় পর্যায়ে আলমে খালকের লতিফা সমূহ অর্থাৎ আব, আতস, খাক, বাদ-কে পবিত্র করার পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়। সর্বশেষে লতিফায়ে নাফসকে পবিত্র করা হয়। সকল লতিফা একে একে পবিত্র হইয়া গেলে পরে নাফস দুর্বল হয়। তখন ইহাকে পবিত্র করা সহজ হয়।
বিজ্ঞাপন
মহাকালবের ক্ষুদ্রতম অংশ লতিফায়ে কালব। আল্লাহ্পাক ফরমান,
لا يَسْعُنِي أَرْضِي وَ لَا سَمَاءِ وَ لَكِنْ يَسْعُنِي قَلْبُ عَبْدِي الْمُؤْمِنِ.
অর্থাৎ-" আসমান জমীনের কোথাও আমার (আরশের) গুঞ্জায়েশ হয় না, একমাত্র মুমিনের কালব ব্যতীত।"
বিজ্ঞাপন
মুমিন ব্যক্তির কালবের মধ্যেই আরশ, কুরসি, লওহ, কলম ও সৃষ্টি জগতের সকল কিছুরই অবস্থান। মুমিন ব্যক্তির কালব যে কত প্রশস্ত, তাহা আল্লাহপাকই জানেন। লতিফায়ে কালব যখন জাত আহদিয়াতের নূরে পরিপূর্ণ হয়, তখন মহাকালবের সন্ধান পাওয়া যায়। তখনই আরশ, কুরসি, লওহ, কলম নিজের ভিতরে পরিলক্ষিত হয়। তাই আল্লাহপাক কুরআন মাজীদে ফরমান,
وَفِي أَنْفُسِكُمْ طَ أَفَلَا تُبْصِرُونَ
অর্থাৎ-"আমার নিদর্শন তোমাদের ভিতরেই আছে তোমরা দেখ না কেন?" (সূরা জারিয়াতঃ ২১) তখন ছালেক মহাকালবের ভিতর দিয়া আরশ, কুরসি, লওহ, কলম সব কিছুরই সন্ধান পায়।
বিজ্ঞাপন
তাই মহাকালবের ভিতরে অর্থাৎ যে কালবের ভিতরে আল্লাহপাকের যোগসূত্র বা সান্নিধ্য পাওয়া যায়, সেই মহাকালবের পরিধি সাত তলা আকাশ হইতে সাততলা জমিনের নীচে "তাহাতাস সারা" পর্যন্ত। এই মহাকালবে ছায়ের শেষ করিতে পারিলে আল্লাহপাকের সান্নিধ্য পাওয়া যায়। তাই রাসূলে করীম (সাঃ) ফরমান,
لا صَلوةَ إِلَّا بِحُضُورِ الْقَلْبِ
অর্থাৎ-হুজুরী কালব ছাড়া নামাজ-ই হয় না।
বিজ্ঞাপন
তাই খেয়াল কালবে, কালব আল্লাহপাকের দিকে, আল্লাহ হাজির নাজির, খেয়ালকে এক কালীন কালবে ডুবাইয়া, আল্লাহকে হাজির নাজির ওয়াহেদ জানিয়া হুজুরী কালবে সিজদা করাই আস্সালাতু মে'রাজুল মু'মিনীন।
তাই লতিফা কালবে খেয়াল এক কালীন ডুবাইতে না পারিলে নামাজে হুজুরী হাসিল হইবে না। আর তাহা না হইলে নামাজে বিভিন্ন খারাপ কথা মনে আসিবে। বাল্য জীবনের কত বন্ধুর স্মৃতি, কত মামলা মোকদ্দমার কথা মনে আসিয়া পৌঁছিবে। মন সেই দিকে ঘুরিয়া যাইবে। মুখে "সুবহানা রাব্বিয়াল আ'লা” (অর্থাৎ-আমার প্রতিপালকের পবিত্রতা ঘোষণা করিতেছি) বলার কি দাম? মৌখিক ভালবাসার দাম কেউ দিয়া থাকেন না। তাহাকে লিপ সিমপ্যাথি (Lip sympathy) বলা হয়। সেই জন্য আল্লাহপাক বলেন, 'তোমরা নাফসের সহিত জিহাদ কর"। "নাফসে আম্মারার" সকল কিছুই আল্লাহতায়ালার বিরুদ্ধে।
'হুজুরী কালব' বা কালবের একাগ্রতা অর্জনে মুর্শিদে কামেলের ভূমিকাঃ
হুজুরী কালবের মারেফাত হাসিল না করা পর্যন্ত কেহই মুমিন হইতে পারিবে না। হুজুরী কালবের মারিফত হাসিল করিবার একমাত্র উপায় মুরশিদে কামেলের পাক তাওয়াজ্জুহ। সেই জন্য আল্লাহপাক এরশাদ করেন,
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَابْتَغُوا إِلَيْهِ الْوَسِيلَةَ
অর্থাৎ-'হে বিশ্বাস স্থাপনকারীগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর ও তাঁহাকে পাওয়ার জন্য অসিলা অন্বেষণ কর-তাহাতে সম্ভবতঃ তোমরা সফল হইতে পারিবে।" (সূরা মায়েদাঃ ৩৫)
সেই অসিলাই জামানার কামেল ওলী সকল। জামানার মুজাদ্দেদ ও শ্রেষ্ঠ কামেলে মুকাম্মেল, আরিফে বিল্লাহ্ হযরত খাজাবাবা শাহসূফী এনায়েতপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ছাহেব, যিনির তাওয়াজ্জু-এ-এত্তেহাদীর দ্বারা লক্ষ লক্ষ মুর্দা দেল জিন্দা হইয়া আল্লাহর জেকেরে পরিপূর্ণ হইতেছে, লতিফায়ে কালব জাত আহদিয়াতের নূরে পরিপূর্ণ হইতেছে, সেই সত্য জিন্দা পীরের কদম মুবারক জড়াইয়া ধরিয়া, আদব, বুদ্ধি, মহব্বত ও সাহসের সংগে তদীয় পাক দেলে দেল মিশাও। তবেই তোমাদের মুর্দা দেল জিন্দা হইয়া তথায় আল্লাহতায়ালার জেকের পয়দা হইবে এবং আল্লাহতায়ালার তাজাল্লী দ্বারা দেল রওশন হইবে।
যেমন ইলেকট্রিক কারেন্ট মূল স্রোতের সংগে কানেকশন লাগাইয়া যেখানেই বাল্ব ফিট কর না কেন, সুইচ টিপ দিলেই বাল্ব জুলিয়া উঠিবে। সেরূপে পীরের পাক দেলের সহিত মুরীদের দেল মিশাইলে মুরশিদে কামেলের পাক তাওয়াজ্জুহতে মুরীদের মাথার চান্দি থেকে পায়ের তলা পর্যন্ত কোটি কোটি লতিফা আল্লাহর জেকেরে পূর্ণ হইয়া মাতোয়ারা হইবে, দেল আল্লাহর দিকে ঘুরিয়া যাইবে, যাহাকে 'সুলতানুল আজঙ্কার' বলা হয়। এই অপূর্ব নেয়ামত পীরে কামেলের পাক তাওয়াজ্জুহ ছাড়া পাওয়া সম্ভব নয়।
তাই হযরত শেখ সাদী (রঃ) বলেনঃ-
"জাগ্রত পরাণ যার মরে না সে জন,
দৈহিক মরণ তার নহেরে মরণ।
শত শত মুর্দা দেল মাটির উপরে,
তার চাইতে অধিক ভাল যদিও কবরে।"
অর্থাৎ-"তুমি একটি লতিফা জিন্দা করিয়া কবরে শুইয়া থাক, সমস্ত পৃথিবীর মুর্দা দেলওয়ালা লোকের চাইতে কবরেই তোমার অধিক শান্তি হইবে।"
তাই মহাকবি হাফেজ বলিয়াছেন, "ওগো দুনিয়ার মানুষ! তোমরা যদি আমার পীরকে বাধ্য করিয়া দিতে পার, তাহা হইলে আমি তোমাদেরকে সমরখন্দ বোখারার সিংহাসন বিলাইয়া দিব।" তিনি আপন পীরকে এত ভালবাসিতেন যে, পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ সিংহাসন সমরখন্দ বোখারার সিংহাসনও তাঁহার পীরের প্রতি ভালবাসার কাছে তুচ্ছ মনে হইয়াছে।
আরও পড়ুন
তাই আশেক সকল বলিয়াছেন, "অতি ভাগ্যের জোরে মুরশিদের বোল।" কামেল পীরের সান্নিধ্য লাভ করা অতি ভাগ্যের জোরেই সম্ভব হয়। পীরে কামেলের তাওয়াজ্জুহ ছাড়া কেহই আল্লাহতায়ালার সান্নিধ্য অন্য কোন উপায়ে অর্জন করিতে পারেন নাই। তাই পারস্যের মহাকবি হাফেজ বলেন, "হাফেজ! তুমি যত বড়ই জ্ঞানী-গুণী, বুদ্ধিমান, সাইন্টিস্ট, বিজ্ঞানী হও না কেন, তোমার পীরের কাছে তুমি কিছুই নও। যদি দুর্বিপাকের তুফান হইতে বাঁচিতে চাও, তবে পীরের সংগকে 'নূহের তরী' মনে করিয়া শক্ত করিয়া ধর; নচেৎ এমনই দুর্বিপাকের তুফান আসিবে যাহা তোমার সবল ভিত্তিকে ভাংগিয়া মেসমার করিয়া ফেলিবে।"
তাই সমস্ত মুরীদগণকে জানানো যাইতেছে যে, যদি আখেরী জামানার বালা হইতে বাঁচিতে চাও, দুশমনের হাত হইতে বাঁচিতে চাও, কঠিন ব্যাধি হইতে বাঁচিতে চাও, আল্লাহতায়ালার গজব হইতে বাঁচিতে চাও, তবে জামানার শ্রেষ্ঠ আরেফ খাজাবাবা হযরত এনায়েতপুরী (কুঃছেঃ আঃ) ছাহেবের পাক দেলের দিকে দেলকে মুতাওয়াজ্জুহ করিয়া সদা সর্বদা খেয়াল করিতে থাক, আনোয়ারে জেকেরে এলাহীয়ার ফয়েজ আল্লাহতায়ালার কুওত, লজ্জত, মহব্বতের সংগে ভরিয়া, মুর্দা-দেল জিন্দা হইয়া, এমে জাত আল্লাহ্, আল্লাহ্ জেকের লতিফায়ে কালবে জারী হইতেছে। ইহাই বর্তমান জামানার গজব হইতে বাঁচার উত্তম উপায়। হর নিঃশ্বাসে খেয়াল কালবে ডুবাইয়া রাখ। দমে দমে আল্লাহকে স্বরণ কর। তবেই আল্লাহতায়ালার রহমত তোমাদের উপর বর্ষিবে। সকল বিপদ-আপদ, বালা-মুছিবত ও তকদীরের বুরা-ঈ হইতে বাঁচিতে পারিবে।








