Logo

রাষ্ট্রপতির আগমন ঘিরে উৎসবের আমেজ, নতুন রঙে সাজছে ঠাকুরগাঁও

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁও
৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৩
রাষ্ট্রপতির আগমন ঘিরে উৎসবের আমেজ, নতুন রঙে সাজছে ঠাকুরগাঁও
ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার সফরকে কেন্দ্র করে পুরো জেলায় তৈরি হয়েছে উৎসবের আবহ। রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে শহরের বিভিন্ন সড়ক, ডিভাইডার ও স্থাপনায় চলছে রঙের কাজ। পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও এগিয়ে চলছে।

বিজ্ঞাপন

আগামী ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঠাকুরগাঁও যাওয়ার কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতির। সফর সামনে রেখে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনা সাজিয়ে তোলার পাশাপাশি ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক সংবর্ধনার মঞ্চ তৈরির কাজ চলছে।

শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সড়কের ডিভাইডারে নতুন করে রঙ করা হচ্ছে। রাস্তার পাশের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সড়কগুলোকে দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে নানা প্রস্তুতি চলছে। রাষ্ট্রপতিকে বরণ করে নিতে সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা বুলবুল হোসেন বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান। রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার নিজ জেলায় তার আগমন স্থানীয়দের জন্য আনন্দ ও গর্বের বিষয়। তাকে স্বাগত জানাতে শহর সাজানো হচ্ছে, মানুষের মধ্যেও উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ব্যবসায়ী জহির ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে শহরের চেহারা অনেকটাই বদলে যাচ্ছে। সড়ক পরিষ্কার করা হচ্ছে, ডিভাইডার ও বিভিন্ন স্থাপনায় রঙ করা হচ্ছে। তার প্রত্যাশা, সফরটি শুধু আনুষ্ঠানিকতা ও উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে জেলার উন্নয়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

গত ২০ আগস্ট সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান হওয়ায় নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই জেলার মানুষের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়। এবার রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার নিজ জেলায় আসায় সেই আনন্দ আরও বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, রাষ্ট্রপতির এই সফরের মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতে কার্যকর পদক্ষেপ চান তারা।

শিক্ষার্থী আয়শা আক্তার বলেন, রাষ্ট্রপতি তাদের জেলার মানুষ হওয়ায় তারা গর্বিত। শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের জন্য রাষ্ট্রপতি ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা জব্বার আলী বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্ত্রী থাকাকালে অল্প সময়ের মধ্যেই ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছেন। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ রয়েছে, যেগুলোর কাজ চলমান। তবে জেলার স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগব্যবস্থায় এখনো আরও উন্নয়ন প্রয়োজন। দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা সমাধানে রাষ্ট্রপতি গুরুত্ব দেবেন বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রপতির প্রথম সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে নাগরিক সমাজের উদ্যোগে নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, দল-মত নির্বিশেষে এতে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেবেন। সংবর্ধনা সফল করতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. মুহাম্মদ আবু খয়রুল কবির বলেন, রাষ্ট্রপতির প্রথম সফর ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ তৈরি হয়েছে। নাগরিক সমাজের উদ্যোগে তাকে সংবর্ধনা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। দল-মত নির্বিশেষে লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতি হবে বলে তারা আশা করছেন।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্বাচিত হওয়াকে স্থানীয়রা নিজেদের গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে উঠে আসা একজন ব্যক্তি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হওয়ায় ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য এটি বিশেষ গৌরবের।

বিজ্ঞাপন

সচেতন নাগরিক ওবায়দুল্লাহ মাসুদ বলেন, রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথমবার নিজ জেলায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আগমন একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। তার সফরকে ঘিরে ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুর অঞ্চলের মানুষের মধ্যেও আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ মনে করেন, মির্জা ফখরুল শুধু রাষ্ট্রপতি হননি, তার মাধ্যমে সাধারণ মানুষেরও প্রতিনিধিত্ব হয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে উঠে আসা একজন জনবান্ধব ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্থানীয়রা তার রাষ্ট্রপতি হওয়াকে দেখছেন। তাদের মতে, দীর্ঘ সংগ্রামী রাজনৈতিক জীবনের পর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে তার আসীন হওয়া সাধারণ মানুষের জন্যও সম্মানের বিষয়।

বিজ্ঞাপন

এদিকে রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে জেলাজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, স্থাপনা ও অনুষ্ঠানস্থলে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের সদস্যরাও ইতোমধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছে প্রস্তুতি শুরু করেছেন।

ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন বলেন, ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদারের কাজ শুরু হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর থেকে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানস্থল, যাতায়াতের সড়ক ও আশপাশের এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

সফরের প্রথম দিন রোববার রাষ্ট্রপতির বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত এবং নাগরিক সংবর্ধনায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। পরদিন সোমবার ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা রয়েছে তার।

বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রপতির আগমন সামনে রেখে রঙের ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁও শহরের চিত্র। শহরজুড়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। একদিকে রাষ্ট্রপতিকে বরণ করে নেওয়ার আনন্দ, অন্যদিকে জেলার উন্নয়ন নিয়ে নতুন প্রত্যাশা—সব মিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে রাষ্ট্রপতির অপেক্ষায় ঠাকুরগাঁওবাসী।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, রাষ্ট্রপতির প্রথম সফর শুধু আনন্দ-উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার পথ তৈরি করবে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD